ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (Oregon Health & Science University) নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন C গ্রহণ শিশুর মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে একটি কার্যকর, কম খরচের এবং সহজলভ্য উপায় হতে পারে।
Developmental Psychology নামক জার্নালে আজ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় যেসব মায়েরা বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন C গ্রহণের পরিমাণ কম থাকে। এর ফলে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন C গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশের জন্য মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এর আগেও গর্ভাবস্থায় অপর্যাপ্ত পুষ্টির সঙ্গে শিশুর আচরণগত ও স্বভাবগত কিছু সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
এখন চিকিৎসক ও গবেষকেরা অনুসন্ধান করছেন, গর্ভাবস্থায় কী ধরনের নির্দিষ্ট পুষ্টিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (Oregon Health & Science University) নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন C গ্রহণ শিশুর মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে একটি কার্যকর, কম খরচের এবং সহজলভ্য উপায় হতে পারে।
Developmental Psychology নামক জার্নালে আজ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় যেসব মায়েরা বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন C গ্রহণের পরিমাণ কম থাকে। এর ফলে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন C গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশের জন্য মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এর আগেও গর্ভাবস্থায় অপর্যাপ্ত পুষ্টির সঙ্গে শিশুর আচরণগত ও স্বভাবগত কিছু সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
এখন চিকিৎসক ও গবেষকেরা অনুসন্ধান করছেন, গর্ভাবস্থায় কী ধরনের নির্দিষ্ট পুষ্টিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ভিটামিন C-এর উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় শরীরে ভিটামিন C-এর চাহিদা বেড়ে যায়। তবে গবেষক উডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ শতাংশ গর্ভবতী নারী তাঁদের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ভিটামিন C গ্রহণ করেন না।
এছাড়া খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন C-এর প্রধান উৎস হলো ফলমূল ও শাকসবজি। কিন্তু অনেক মানুষের জন্য, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্য এসব খাবার কেনা ও সংগ্রহ করা ব্যয়বহুল এবং কঠিন হতে পারে।
গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ তাঁদের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এর ফলে মায়ের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে শিশুর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, শিশু কীভাবে নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তুলতে, নিজের আবেগ বুঝতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভিটামিন C-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বৈশিষ্ট্যের কারণে গবেষকেরা ধারণা করেন, প্রতিদিন বড়ি বা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন C গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
এই গবেষণার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল খাবার থেকে পাওয়া ভিটামিন C এবং সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া ভিটামিন C-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা। পাশাপাশি শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে এই দুই উৎসের প্রভাব পরিমাপ করা এবং গর্ভাবস্থায় পুষ্টি সম্পর্কে চিকিৎসা নির্দেশনা ও নীতিমালা উন্নত করা।
গবেষকেরা ৩০০ জনেরও বেশি গর্ভবতী নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের খাবার ও সাপ্লিমেন্ট থেকে দৈনিক কতটুকু ভিটামিন C গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিও পরিমাপ করা হয়।
প্রথমে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ পরিমাপের জন্য স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক পদ্ধতি ব্যবহার করে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিদেরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। এর মাধ্যমে তাঁদের খাদ্যাভ্যাস এবং মোট ভিটামিন C গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সবশেষে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী মায়েদের শিশুর বয়স যখন প্রায় ৬ মাস হয়, তখন তাঁদের পরিচর্যাকারীদের একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাড়ির পরিবেশে শিশুদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় বেশি মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন এবং যাঁদের ভিটামিন C গ্রহণের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল, তাঁদের শিশুদের মধ্যে ৬ মাস বয়সে বিরক্তি, অস্থিরতা ও মানসিক অস্বস্তির মতো নেতিবাচক আবেগ প্রকাশের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। এসব লক্ষণ ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
এলিনর সুলিভান, পিএইচডি (OHSU)।
তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, গর্ভাবস্থায় সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে ভিটামিন C গ্রহণ শিশুদের নেতিবাচক আবেগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভিটামিন C ভ্রূণের বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ কথা জানিয়েছেন গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক এলিনর সুলিভান, পিএইচডি, যিনি ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক।
সুলিভান বলেন,
“এই গবেষণার সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, পুষ্টির বিষয়টি তুলনামূলকভাবে পরিবর্তনযোগ্য, বিশেষ করে যখন মানুষের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা থাকে। ভিটামিন C সাপ্লিমেন্টের দাম কম, সহজেই পাওয়া যায় এবং রোগীরা চাইলে এটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
এই আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তনটি ভবিষ্যতে শিশু ও পরিবারগুলোর জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
ছোট্ট দ্রষ্টব্য: এটি মূল ইংরেজি লেখার বাংলা অনুবাদ। গবেষণার ফলাফলকে নিশ্চিত চিকিৎসা-পরামর্শ হিসেবে ধরা উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় ভিটামিন C সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



