চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০২৬ (Nobel Prize in Physiology or Medicine 2026) ঘোষণা করা হয়েছে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। এবারের পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী — কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল — আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল আবিষ্কার এবং অপটোজেনেটিক্স (optogenetics) উদ্ভাবনের জন্য। সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এই ঘোষণা দেয়। এই পোস্টে Nobel Prize in Medicine 2026-এর বিজয়ীদের পরিচয়, তাদের যুগান্তকারী আবিষ্কারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, অপটোজেনেটিক্স কী ও কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, পুরস্কারের অর্থমূল্য এবং সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন পাবেন।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি বিজয়ী কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেম্যান, গেয়র্গ নাগেল অবদান আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স আবিষ্কার।
পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (তিনজনের মধ্যে ভাগ)
কার্ল ডাইসেরথ (Karl Deisseroth)
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরথ ১৯৭১ সালের ১৮ নভেম্বর বোস্টনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং মনোরোগ ও আচরণবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের গবেষক। মনোরোগচিকিৎসক ও বায়োইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি স্নায়ুবিজ্ঞানে আলোর ব্যবহার নিয়ে যুগান্তকারী কাজ করেছেন।
পিটার হেগেম্যান (Peter Hegemann)
জার্মান জৈবরসায়নবিদ ও জৈবপদার্থবিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান ১৯৫৪ সালের ১১ ডিসেম্বর মুনস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক এবং ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর বায়োকেমিস্ট্রি থেকে ডক্টরেট করেন। বর্তমানে তিনি বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
গেয়র্গ নাগেল (Georg Nagel)
জার্মান জৈবপদার্থবিজ্ঞানী গেয়র্গ নাগেল ১৯৫৩ সালের ২৪ আগস্ট ভাইনগার্টেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কনস্টানৎস বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান ও জৈবপদার্থবিজ্ঞান পড়েন এবং ফ্রাংকফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করেন। বর্তমানে তিনি ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
অপটোজেনেটিক্স কী? | What is Optogenetics
অপটোজেনেটিক্স হলো এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে চালু (activate) বা বন্ধ (silence) করা যায়। এর ভিত্তি হলো চ্যানেলরোডোপসিন নামের একটি আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন, যা হেগেম্যান ও নাগেল এককোষী শৈবালের মধ্যে আবিষ্কার করেন।
আবিষ্কারের ধাপগুলো:
প্রথম ধাপ: হেগেম্যান ও নাগেল শৈবালের মধ্যে আলোর প্রতি সাড়া দেওয়া প্রোটিন চ্যানেল (light-gated ion channel) শনাক্ত করেন।
দ্বিতীয় ধাপ: ডাইসেরথ এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষে স্থাপন করে আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
ফলাফল: গবেষকরা এখন আলো জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
এই কৌশল মস্তিষ্ক গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে — স্নায়বিক কার্যকলাপ কীভাবে আচরণ, আবেগ ও জটিল মানসিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তা বোঝা এখন অনেক সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতে পারকিনসন, বিষণ্ণতা ও অন্ধত্বের মতো রোগের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।



